রাজশাহী টিটিসির সুনাম ক্ষুণ্নে পরিকল্পিত অপপ্রচারের অভিযোগ
রাজশাহী টিটিসির সুনাম ক্ষুণ্নে পরিকল্পিত অপপ্রচারের অভিযোগ
মাসুদ রানা রাব্বানী, রাজশাহী: রাজশাহী কারিগরি প্রশিক্ষণ কেন্দ্র (টিটিসি)-এর সুনাম ক্ষুণ্ন, প্রশাসনিক স্থিতিশীলতা বিনষ্ট এবং চলমান দক্ষতা উন্নয়ন কার্যক্রমে বাধা সৃষ্টির উদ্দেশ্যে পরিকল্পিত অপপ্রচার ও ষড়যন্ত্রে লিপ্ত থাকার অভিযোগ উঠেছে সাবেক অধ্যক্ষ এস এম ইমদাদুল হক ও তার ঘনিষ্ঠ সহযোগী সাবেক স্টোরকিপার আজমে এশরাক মন্ডলের বিরুদ্ধে। এ ঘটনায় জড়িতদের বিরুদ্ধে নিরপেক্ষ তদন্ত ও দৃষ্টান্তমূলক ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি উঠেছে।
সংশ্লিষ্ট প্রশাসনিক ও অভ্যন্তরীণ সূত্রগুলোর দাবি, বদলির পরও ব্যক্তিগত স্বার্থ হাসিল এবং প্রশাসনিক সিদ্ধান্তকে প্রভাবিত করার লক্ষ্যে তারা অনিবন্ধিত ইউটিউবার ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহার করে রাজশাহী টিটিসির বর্তমান অধ্যক্ষ ও কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে বিভ্রান্তিকর ও মিথ্যা তথ্য ছড়িয়ে দিচ্ছেন। এতে একটি গুরুত্বপূর্ণ কারিগরি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের স্বাভাবিক কার্যক্রম ও পরিবেশ ব্যাহত হচ্ছে বলে অভিযোগ রয়েছে।
অভিযোগ সূত্রে জানা গেছে, অনিয়ম-দুর্নীতি ও নারী সহকর্মীর প্রতি অশালীন আচরণসহ একাধিক অভিযোগ প্রমাণিত হওয়ায় বাংলাদেশ জনশক্তি কর্মসংস্থান ও প্রশিক্ষণ ব্যুরো (বিএমইটি)-এর সিদ্ধান্তে সাবেক অধ্যক্ষ এস এম ইমদাদুল হককে বগুড়া টিটিসিতে শাস্তিমূলক বদলি করা হয়। গত ৫ নভেম্বর ২০২৪ তারিখে তাকে রাজশাহী টিটিসি থেকে অবমুক্ত করা হয়। এর পরপরই রাজশাহীতে নবনিযুক্ত অধ্যক্ষ মো. নাজমুল হকের বিরুদ্ধে অপপ্রচার শুরু হয় বলে দাবি সংশ্লিষ্টদের।
সূত্রগুলো আরও জানায়, দায়িত্বকালীন সময়ে এস এম ইমদাদুল হক তার মনোনীত স্টোরকিপার আজমে এশরাক মন্ডলকে হিসাব সংক্রান্ত অতিরিক্ত গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব প্রদান করেন। এতে করে পরস্পর যোগসাজশে ভুয়া বিল-ভাউচার তৈরি করে সরকারি অর্থ আত্মসাতের সুযোগ সৃষ্টি হয় বলে অভিযোগ রয়েছে। পরবর্তীতে বর্তমান অধ্যক্ষ মো. নাজমুল হক দায়িত্ব গ্রহণের পর এসব অনিয়ম শনাক্ত করলে আজমে এশরাক মন্ডলকে নওগাঁ টিটিসিতে বদলি করা হয়। এরপর থেকেই দুজনের বিরুদ্ধে যৌথভাবে ষড়যন্ত্রে লিপ্ত থাকার অভিযোগ সামনে আসে।
উল্লেখ্য, মো. নাজমুল হক গত (২৫ নভেম্বর ২০২৪) রাজশাহী টিটিসির অধ্যক্ষ হিসেবে যোগদান করেন। দায়িত্ব গ্রহণের পর তিনি প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয় এবং বিএমইটির ভিশন ও মিশন অনুযায়ী দক্ষতা উন্নয়ন, বেকারত্ব হ্রাস ও কর্মসংস্থানমুখী কার্যক্রম জোরদারে বিভিন্ন উদ্যোগ গ্রহণ করেন।
তবে অভিযোগ রয়েছে, সাবেক অধ্যক্ষ এস এম ইমদাদুল হকের ইন্ধনে আজমে এশরাক মন্ডল নাম-বেনামে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বর্তমান অধ্যক্ষ, হিসাবরক্ষকসহ কয়েকজন কর্মকর্তার বিরুদ্ধে মিথ্যা ও বানোয়াট তথ্য প্রচার করছেন। এতে রাজশাহী টিটিসির সুনাম ও সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের ব্যক্তিগত সম্মান ক্ষুণ্ন হচ্ছে বলে দাবি করা হয়েছে।
সংশ্লিষ্ট একাধিক সূত্রের মতে, শাস্তিমূলক বদলির মুখে পড়া সাবেক অধ্যক্ষকে পুনরায় রাজশাহীতে ফিরিয়ে আনার পথ সুগম করতেই পরিকল্পিতভাবে বিতর্ক ও কৃত্রিম সংকট সৃষ্টি করা হচ্ছে। অভিযোগ, ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের ওপর প্রশাসনিক চাপ তৈরির উদ্দেশ্যেই এ ধরনের অপপ্রচার চালানো হচ্ছে।
এ বিষয়ে রাজশাহী টিটিসির অধ্যক্ষ মো. নাজমুল হক বলেন, দক্ষতা উন্নয়ন, বেকারত্ব দূরীকরণ ও কর্মসংস্থান কার্যক্রমকে বাধাগ্রস্ত করার উদ্দেশ্যে আমার ও টিটিসির কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে যে মিথ্যা ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত অপপ্রচার চালানো হচ্ছে, তা বন্ধ হওয়া জরুরি। এ ঘটনায় জড়িতদের বিরুদ্ধে নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে দৃষ্টান্তমূলক ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানাচ্ছি।
এ ব্যপারে জানতে চাইলে সাবেক স্টোরকিপার আজমে এশরাক মন্ডল অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, তিনি কোনো ধরনের মিথ্যা তথ্য বা অপপ্রচারে জড়িত নন। অন্যদিকে, সাবেক অধ্যক্ষ এস এম ইমদাদুল হকের বক্তব্য জানতে একাধিকবার ফোন করা হলেও তিনি কল রিসিভ না করায় তার মন্তব্য পাওয়া যায়নি।
নিউজটি আপডেট করেছেন : Banglar Alo News Admin
কমেন্ট বক্স